হার্টবিট ডেস্ক
কিডনি রোগীদের নিয়ে প্রথমবারের মত চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো এক বিশেষ সেমিনার। সেমিনারে মূখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মো. হারুনর রশিদ চৌধুরী , এমডি( নেফ্রোলজী)।
গত শনিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে নগরের জিইসি মোড়ে একটি রেস্তোরাঁয় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।এতে অর্ধ শতাধিক কিডনি রোগী ও তাদের অভিভাবকরা মতবিনিময় করেন।
এখানে রোগীরা তাদের কিডনী রোগ বিষয়ে নানা সমস্যা তুলে ধরেন এবং অজানা প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন। ডা. মো. হারুনর রশিদ চৌধুরী রোগীদের সকল প্রশ্নের জবাব দেন এবং কিডনী রোগের নানা দিক বিশদভাবে আলোচনা করেন। রোগীদের মনে কিডনি রোগ নিয়ে নানা কুসংষ্কার ও বিভিন্ন ভুলভ্রান্তি নিরসনেও বিশেষভাবে আলোকপাত করেন।
কিডনীর গুরুত্ব বোঝাতে তিনি বলেন, কিডনি আমাদের শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। কিডনি অকেজো হলে শরীরে দূষিত পদার্থ জমে যায় ফলে নানান উপসর্গ দেখা দেয়। -কিডনি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে যা শরীরের অন্যান্য ফাংশন নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা, শরীরে রক্ত তৈরি করা। তাই কিডনি অকেজো হলে শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেয় এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়। -কিডনি আমাদের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং ইলেক্ট্রোলাইট (ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম)-এর সমতা রক্ষা করে। কিডনি কাজ না করলে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায় যেটা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এই রোগের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডা. হারুনর রশিদ বলেন, দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ঘন ঘন মূত্রনালীর সংক্রমণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং ওজন বৃদ্ধির কারণে কিডনি রোগ হয়ে থাকে। পর্যাপ্ত পরিমান পানি না খাওয়া এবং ধূমপান হতে পারে কিডনি রোগের কারণ। অনেক সময় পরিবারের কারও কাছ থেকেও এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে। অনেক কিডনি রোগই প্রতিরোধ করা যায়। যেমন- যাদের ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ আছে তারা যদি নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখেন তাহলে কিন্তু কিডনি রোগ অনেকাংশে এড়ানো যায়।
অতএব আমাদের মনে রাখতে হবে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। যখন তখন ব্যথার ওষুধ এবং এন্টিবায়োটিক সেবন পরিহার করতে হবে। নিয়মিত সুস্থ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করতে হবে। সচেতনতাই ৫০ শতাংশ কিডনি রোগ কমাতে পারে।
কিডনির সমস্যার কারণ যাই হোক না কেন, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের চিকিৎসার প্রধান উপায় হল সঠিক খাদ্য নির্বাচন। কিডনি রোগীদের ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে ডায়েটের পরামর্শ মেনে চললে কিডনিকে মারাত্মক সমস্যা থেকে রক্ষা করা সম্ভব। কিডনি রোগীদের তরল নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। প্রতিদিনের চা, দুধ ও পানি সবই তরল আকারে। অনেক রোগী বেশী পান করেন, এটি ভূল। রোগ হয়ে গেলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে পানি পান করতে হবে।চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বন্ধ করা চলবে না ।
বর্তমানে আমাদের দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা খুবই দ্রুতগতিতে বাড়ছে, যা আমাদের সাধারণ মানুষের মনে বেশ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। তাই এ রোগের ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এরই অংশ হিসেবে এই সেমিনার বলে জানান উদ্যোক্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিল হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস।






Discussion about this post