হার্টবিট ডেস্ক
ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি পদ্ধতি এক অভিনব চিকতিসা পদ্ধিতির নাম। যারা কানে শোনেন না কিম্বা একেবারেই কম শোনেন তাদের চিকিতসা করা হয় এই সার্জারীর মাধ্যমে। ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র যার একটি অংশ সার্জেনরা অপারেশন করে কানের ভেতর বসিয়ে দেন যা আমৃত্যু কার্যকর থাকে। বাকি অংশটুকু কানের পেছনে লাগিয়ে শব্দ শোনা যায় প্রায় একেবারেই স্বাভাবিকের মতো। কানে শোনার ক্ষেত্রে যাদের জন্মগত সমস্যা রয়েছে তাদের বেলায় ১০ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট করলে কানে ভালো শুনতে পাবে।
ককলিয়ার ইমপ্লান্ট হল ছোট একটা ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক এই দুই অংশই রয়েছে। এই ডিভাইস ককলিয়ার নার্ভকে (এর জন্যই কানে শুনতে পারা যায়) উদ্দীপ্ত করে তোলে শব্দের অনুভূতি জাগানোর জন্য। ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি করালে আপনি আরও ভাল করে কানে শুনতে পারবেন। অবশ্য এটা হারিয়ে যাওয়া শ্রবণ ক্ষমতাকে ফিরিয়ে আনে না।
কেন এটা করা হয়?
আপনাকে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি করার কথা বলা হয়, যদি:
- আপনি এখন দু কানেই শুনতে না-পেয়ে থাকেন
- শ্রবণ যন্ত্র লাগিয়ে কোনও কাজে আসছে না
- আপনি শুনতে পাচ্ছেন, কিন্তু তা স্পষ্ট নয়
- আপনার চিকিৎসা সংক্রান্ত এমন কোনও সমস্যা নেই, যার ফলে সার্জারি করে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।


এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগের সময় কী হয়?
জেনারেল অ্যানেস্থেসিয়া করে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি করা হয়। মাস্টয়েড হাড়কে খোলার জন্য সার্জন আপনার কানের পেছনে একটা ছেদ করে। ককলিয়াকে পাওয়ার জন্য মুখের স্নায়ুকে শনাক্ত করে মাস্টয়েড হাড় ও মুখের স্নায়ুর মাঝখানে ফাঁকা জায়গা একটা তৈরি করা হয়। ককলিয়া খুলে গেলেই এর মধ্যে ইমপ্লান্ট ইলেকট্রোড ইনসার্ট করে দেওয়া হয়। কানের পেছনে ত্বকের নীচে এই রিসিভার (ইলেকট্রিক ডিভাইস) বসিয়ে দিয়ে ছেদ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এটা করতে কতক্ষণ লাগে?
আপনার অবস্থার উপর নির্ভর করে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট সার্জারি করতে প্রায় 2 থেকে 4 ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। এই সার্জারির কথা বিস্তারিত ভাবে আপনাকে আপনার সার্জন বলে দেবেন।
এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগের পর কী হয়?
আপনার ব্যথা নিরাময়ের জন্য আপনাকে ওষুধ দেওয়া হবে। আপনি কতখানি সুস্থ হয়ে ওঠেন, তার উপর নির্ভর করে আপনাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে। আপনার ফলো-আপ ভিজিটের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। 4-6 সপ্তাহ পর এই ডিভাইসের বাহ্যিক অংশটাকে যোগ করা হবে। এই বাহ্যিক ডিভাইসটার যত্ন কী ভাবে নিতে হয় এবং কী ভাবে এটাকে ব্যবহার করতে হয়, সেসব আপনি জেনে যাবেন। আপনাকে হয়তো স্পিচ-ল্যাঙ্গোয়েজ থেরাপিস্ট ও অডিওলজিস্টের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
–ককলিয়ার প্রতিস্থাপনের উপযুক্ত সময় কোনটি?
–সবচেয়ে ভালো হয় জন্মের এক বছরের মধ্যে এই অস্ত্রোপচারটি করা। এই বয়সে অস্ত্রোপচার করার জন্য শিশু যথেষ্ট উপযুক্ত থাকে। শিশুকালে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হলে দীর্ঘমেয়াদি ভালো ফল পাওয়া যায়।
–প্রতিস্থাপনের ফল কতটা আবশ্যক?
–এ ধরনের অস্ত্রোপচারের ফল আশাব্যঞ্জক। বধির হয়ে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব এ ধরনের অস্ত্রোপচার থেকে। অন্যদিকে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক, যিনি শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন তিনিও খুব ভালোভাবে শুনবেন ককলিয়ার ইমপ্লান্টের মাধ্যমে।
-ককলিয়ার ইমপ্লান্ট কতটা নিরাপদ?
–এই পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচার প্রায় শতভাগই নিরাপদ। ককলিয়ার প্রতিস্থাপনের চিকিৎসার ১ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে জটিল বা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। সাধারণত এ ধরনের সার্জারি করতে ঘণ্টা দুয়েক সময় লাগে এবং রোগীকে মাত্র এক রাতের জন্য হাসপাতালে থাকতে হয়।
–ককলিয়ার ইমপ্লান্ট করার খরচ কেমন?
–ককলিয়ার ইমপ্লান্ট অন্যান্য আধুনিক অস্ত্রোপচারের মতো এত ব্যয়বহুল নয়। তবে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইসটি বেশ দামি। এগুলোর দাম সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বা তার ঊর্ধ্বে।


-অস্ত্রোপচার কি উভয় কান নাকি এক কানে করলেই চলে?
–শ্রবণ ও সামগ্রিক মস্তিস্কের বিকাশের জন্য উভয় কানে অস্ত্রোপচার করা এক কানের চেয়ে ভালো ফল দেয়। কিন্তু আর্থিক কারণে এটি সম্ভব না হলে এক কানেও অস্ত্রোপচার করা যেতে পারে। ভারতে বেশিরভাগ রোগীর এক কানেই সার্জারি করানো হয়।
-ককলিয়ার ইমপ্লান্ট অস্ত্রোপচার কি শিশুর মস্তিস্কের বিকাশে বাধা দেয়?
–কখনোই না। কিছু প্রতিবেদনে এই গুজব মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, শিশুদের একটি ছোট্ট শতাংশ বড় হয়ে কিছু মানসিক সমস্যায় ভুগতে পারে। তবে সিংহভাগ সময়ই এই সার্জারির পর শিশুর মানসিক বিকাশে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩ লাখ মানুষ সফলভাবে ককলিয়ার ইমপ্লান্ট করেছেন।
যন্ত্রটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ
ককিলিয়ার ইমপ্লান্ট নামক যন্ত্রটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে যন্ত্রটিকে শুকনো রাখা। কোনোভাবে যেন এটাতে পানি না যায় এবং আঘাত না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাছাড়া যন্ত্রটিকে রাখার সময় ভালো করে একটা কাপড় দিয়ে মুছে ড্রাই এইড নামের যে বক্স যাকে ড্রাইয়ার বলে তার মধ্যে প্রতিদিন রাখা উচিত। আমাদের দেশে গরমের সময় প্রচণ্ড আদ্রতা ও ঘামের জন্য মেশিনারিজের ক্ষতি হয় বা ইনফরমেশনও ক্ষতি হয় সেজন্য ঘাম হলে আমরা যেমন চশমা মাঝে মাঝে মুছি। ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্টকেও য কয়েক ঘন্টা পর একটা কাপড় দিয়ে মুছে আবার কানে লাগিয়ে নেয়া উচিত।








Discussion about this post