হার্টবিট ডেস্ক
প্রায় ৩০ লাখ শ্রবণপ্রতিবন্ধী মানুষ আছেন বাংলাদেশে। এ ছাড়া আরও প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কোনো না কোনো মাত্রায় শ্রবণহীনতা আছে। দেশে মোট জনসংখ্যার জন্য নাক কান গলা রোগের চিকিৎসক মাত্র ৫শ’৫০ জনের মতো। অর্থাৎ গড়ে প্রতি তিন লাখ মানুষের জন্য একজন নাক কান গলার রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।দেশের ৯ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন মাত্রায় বধিরতায় ভুগছেন। এ অবস্থায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩ মার্চ পালিত হলো বিশ্ব শ্রবণ দিবস।
বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের বেশি মানুষ শ্রবণে অক্ষম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায় প্রায় ৪শ’ ৬৬ মিলিয়ন মানুষ শ্রবণহ্রাস নিয়ে বেঁচে আছেন। সঠিক ও সময়োপযোগী ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৬শ’৩০ মিলিয়নে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, অনেকে জন্মগতভাবে কানে শোনে না। আবার অনেকে দুর্ঘটনা বা নানা রোগের কারণে শ্রবণশক্তি হারান।শ্রবণশক্তি কমে মূলত বংশগত, জন্মগত জটিলতা, নির্দিষ্ট সংক্রামক রোগ, ক্রনিক কানের সংক্রমণ ও বার্ধক্যজনিত কারণে।
এছাড়া ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অত্যাধিক শব্দদুষণেও সাধারণ শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেন অনেকে। বাংলাদেশে শব্দের তীব্রতা ৬০ ডেসিবেলের কম হলে শুনতে না পাওয়া ব্যক্তিকে শ্রবণপ্রতিবন্ধী বলে।
গবেষণায় উঠে এসেছে, বিশ্বে শতকরা ৫ ভাগের বেশি মানুষের কোনো না কোনো মাত্রায় শ্রবণহীনতা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি শতকরা ২৭ শতাংশ। আর বাংলাদেশে ৩৩ শতাংশ। শ্রবণশক্তি হ্রাস ঠেকাতে যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন, শ্রবণশক্তি হ্রাসকারীর প্রয়োজনীয় পূনর্বাসন সেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বক্তারা বলেন, অসচেতনতা, অজ্ঞতা ও অবহেলার কারণে অনেকে শ্রবণশক্তি হারিয় ফেলেন। পরিবারে মা-বাবার কারণেও অনেক শিশুর শ্রবণ সমস্যা হয়। এ জন্য মানুষকে সচেতন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশ অনেক মানুষের শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার জন্য শব্দদূষণকে দায়ী করেন। তাঁরা বলেন, এ ক্ষেত্রে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য মাত্র আটটি বিশেষ বিদ্যালয় আছে। এখানে সব মিলে এক হাজার শিক্ষার্থীর পড়ার সুযোগ রয়েছে। মাধ্যমিক থেকে উচ্চ স্তরে শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ প্রায় শূন্যের কোটায় রয়েছে। এ কারণে শিক্ষার অভাবে এরা দক্ষ জনগোষ্ঠীতে পরিণত হতে পারছে না।







Discussion about this post